বীরভূমের দুবরাজপুরে চাটনি বিতর্ক: তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চড় মারার অভিযোগ

dubrajpur chatney incident

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বীরভূমের দুবরাজপুরে একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সামান্য চাটনি। একটি তেলেভাজার দোকানে চাটনি কম দেওয়া নিয়ে শুরু হয় তুমুল উত্তেজনা, যা শেষমেষ জাতীয় সড়ক অবরোধ পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনাটি গোটা এলাকাকে রীতিমতো চমকে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:

দুবরাজপুরের শ্মশান কালী মন্দিরের কাছে অবস্থিত একটি তেলেভাজার দোকানে সিঙ্গারা কিনতে যান দুবরাজপুর পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর শেখ নাজিরউদ্দিন। দোকান থেকে সিঙ্গারা কেনার পর তিনি বাড়তি চাটনি দাবি করেন। দোকানের কর্মী জানিয়ে দেন, “তিনটি সিঙ্গারার সঙ্গে একটি চাটনি দেওয়া হয়”— এই নিয়ম অনুসারে বাড়তি চাটনি দেওয়া সম্ভব নয়।

কিন্তু কর্মীর এই উত্তর পছন্দ হয়নি শেখ নাজিরউদ্দিনের। অভিযোগ উঠেছে, তিনি রাগান্বিত হয়ে দোকানের ওই কর্মীকে চড় মারেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মুহূর্তেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া:

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুবরাজপুর থানা মোড়ের কাছে রানীগঞ্জ-মোরগ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা তৃণমূল কাউন্সিলরের এমন ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভ শুরু হতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দুবরাজপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা। তার উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

তৃণমূল নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ:

বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়, দুবরাজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পীযূষ পান্ডে এবং ভাইস-চেয়ারম্যান মির্জা শওকত আলী। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পুলিশের আশ্বাসে প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।

অভিযুক্ত কাউন্সিলরের অবস্থান:

এই ঘটনার পরই অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর শেখ নাজিরউদ্দিনকে সদাইপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং গভীর রাতে তাকে দুবরাজপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।

উপসংহার:

একটি সামান্য চাটনি বিতর্ক যে এত বড় আকার নিতে পারে, তা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও অভিযুক্ত কাউন্সিলর তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু এই ঘটনা তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

One Comment on “বীরভূমের দুবরাজপুরে চাটনি বিতর্ক: তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চড় মারার অভিযোগ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *